বনানীতে পুলিশ সোর্সের মাদক ব্যবসা, পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

বনানীতে পুলিশ সোর্সের মাদক ব্যবসা : পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

রাজধানীর বনানীতে মাদকবিরোধী অভিযান বা মাদক নির্মূলে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পুলিশের কথিত কিছু সোর্স। পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে তারা বিভিন্ন স্থানে মাদক সরবরাহ করছে। এমনও অভিযোগ আছে, কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য মাদক উদ্ধার করে সোর্স মানি হিসেবে মাদক দিয়ে থাকে। যে কারণে ওই মাদক ফের বিক্রেতাদের কাছে চলে যাচ্ছে।

সোর্সরা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকে। যারা সুবিধা দিতে পারে না; তাদের পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেয়। এসব সোর্স আবার প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থাকে। ফলে তাদের বিরুদ্ধে খুব বেশি ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

বনানীতে মাদকের মহাজন হিসেবে আলোচিত বনানী থানা পুলিশের সোর্স শহীদ ওরফে ফর্মা শহীদ। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, অবৈধ অস্ত্রবহন-ব্যবহার, হুমকি-ধামকি দিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। বনানী এলাকার নকল হিজড়াদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদের পক্ষে কাজ করেন শহীদ।’ অনুসন্ধানে জানা যায়, বনানী থানা পুলিশের কথিত সোর্স শহীদকে ২০০৫ সালে বিস্ফোরক ও অবৈধ অস্ত্রসহ বনানী ২ নম্বর রোড এর হিন্দুপাড়ার বস্তি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে জামিনে বের হওয়ার পর থেকেই শহীদ পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করতে থাকেন। প্রথমে গুলশান থানায় বর্তমানে বনানী থানায়। পুলিশের সাথে সম্পর্কের সুবাদে দিনদিন তার অপরাধ কর্মকান্ড বেড়েই চলেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মহাখালী টিএন্ডটি মাঠের পাশে গোডাউন বস্তিতে শহীদের ঘরে সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ট্যাবলেট, ফেনসিডিল, বিয়ার ও মদের জমজমাট ব্যবসা চলছে। অভিযোগ আছে, তার ঘরে প্রতিদিন জুয়া খেলা চলে। স্থানীয় সূএে আরো জানা যায়, সোর্স শহীদ অএ এলাকার মাদকের মহাজন ও চোরদের সর্দার। বিভিন্ন সময়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালনার সময় গ্রেফতার থেকে রক্ষা পেতে বাড্ডা, শাহজাদপুর, বারিধারা ডিওএইচ অথবা তার শশুরবাড়ী কুমিল্লায় আত্মগোপন করে থাকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পূনরায় ফিরে এসে অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে যায়। এতে তাকে খোজ-খবর দিয়ে সহযোগিতা করে বনানী থানা পুলিশের ক’জন পুলিশ।

পুলিশ সোর্স মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকায় রয়েছে, আবদুল আলীর ছেলে শরীফ ওরফে পাগলা শরীফ। মহাখালী স্কুল রোডে নূরানী মসজিদের পাশের গলিতে নিজ বাড়ীতে শরীফের মাদক স্পট। একাধিক মামলার আসামি শরীফ বারবার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেও জামিনে বের হয়ে আবার ইয়াবা-গাঁজা বিক্রি চালিয়ে যায়। অনুসন্ধানে জানা যায়, মাদক ব্যবসায়ী শরীফ বনানী থানার এসআই আবু তাহেরকে ম্যানেজ করে মাদক ব্যবসা করেন।

বনানীতে আরও যারা কথিত সোর্স হিসেবে কাজ করছে এবং মাদক ব্যবসা করছে এদের মধ্যে মহাখালী টিবি গেট এলাকায় রকি, মহাখালী প্রানী সম্পদ গবেষনা প্রতিষ্ঠান এলাকায় নাটা ইউসুফ, গোডাউন বস্তির হারুন, মফিজ, রিদয়, সুমন, মহাখালী বাজারে মানিক, ওয়ারলেস গেট এলাকায় ড্রাইভার কাশেম। এসব সোর্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে বনানীতে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।